
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সিস্টেমটি নিম্নচাপে এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন এটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বর্তমানে সিস্টেমটির কেন্দ্র থেকে ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। এর প্রভাবে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় সাগর ধীরে ধীরে উত্তাল হয়ে উঠছে।
বিডব্লিউওটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় সিস্টেমটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এরপর শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিম দিকে মোড় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য তীব্রতা এখনো নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এটি আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা সংলগ্ন দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর দূরবর্তী প্রভাবে দেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সিস্টেমটির গতিপথ, শক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।